শুভ জন্মদিন বাউল সম্রাট


শুভ জন্মদিন বাউল সম্রাট

একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী উস্তাদ শাহ আব্দুল করিমের ১০৫তম  জন্মদিন আজ। সুনামগঞ্জের  দিরাই উপজেলার ধল গ্রামের এক  কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা ইব্রাহিম আলী ও মা নাইওরজান।

উস্তাদ শাহ আবদুল করিম একাধারে একজন কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী, সুরকার, গীতিকার ও সঙ্গীত শিক্ষক। বাউল সঙ্গীতকে অনন্য উচ্চাতায় নিয়ে গেছেন তিনি। শাহ আব্দুল করিম প্রায় দেড় হাজারের মতো গান রচনা করেছেন। 

তার উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে আছে- ‘কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু’, ‘বসন্ত বাতাসে সই গো’, ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’, ‘গাড়ি চলে না’ ‘প্রাণনাথ ছাড়িয়া যাইও না মোরে’, ‘আগের বাহাদুরি এখন গেল কই’, ‘বন্দে মায়া লাগাইছে’, ‘আমার বন্ধুয়া বিহনে গো’, ‘মাটির পিঞ্জিরার সোনা ময়না রে’, ‘কোন মেস্তরি নাও বানাইছে’, ‘আইলা না আইলা নারে বন্ধু’, ‘মানুষ হয়ে তালাশ করলে মানুষ হওয়া যায়’, ‘সখি কুঞ্জ সাজাও গো’, ‘তুমি বিনে আকুল পরাণ’, ‘আমি তোমার কলের গাড়ি’, ‘আমি কুলহারা কলঙ্কিনী’, ‘কেমনে ভুলিব আমি’ ও ‘রঙের দুনিয়া তোরে চাই না’র মতো কালজয়ী গানগুলো এখনও শ্রোতাদের মন আলোড়িত করে।

শাহ আব্দুল করিম ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। লালন ফকির, হাছন রাজা, রাধারমণ, শীতালং শাহ, আরকুম শাহ, দূরবীন শাহ, উকিল মুন্সী, শেখ বানুর গানকে মনেপ্রাণে ধারণ করতেন তিনি। 

তার প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা সাতটি। 

শাহ আব্দুল করিম অত্যন্ত সহজ-সরল জীবন যাপন করতেন। তিনি গানে-গানে লড়াই করেছেন ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে। এ জন্য মৌলবাদীদের নানা লাঞ্ছনারও শিকার হতে হয়েছে তাঁকে।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, কাগমারী সম্মেলন, ভাষার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে মানুষকে প্রেরণা জুগিয়েছিলো শাহ আবদুল করিমের গান। গানের জন্য মাওলানা ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহচর্যও পেয়েছেন তিনি।

বাংলার লোকায়ত গানের সর্বশেষ অধীশ্বর বলা হয় শাহ আব্দুল করিমকে। ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামে এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বসন্ত বাতাসে ছড়িয়ে পড়ুক তার জন্মদিনের কথা।