ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিক গ্রেফতার


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিক গ্রেফতার

ফেসবুকে পোস্ট করার জের ধরে বগুড়ায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত মো. আকতারুজ্জামান সাগর বাণিজ্য প্রতিদিন পত্রিকার বগুড়া জেলা প্রতিনিধি।

১৮ জুলাই, রোববার বগুড়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক শামিমা আকতারের মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ গ্রেফতার করে তাকে।

‘বগুড়ায় স্বাস্থ্য স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মানী প্রদানে হরিলুট। নেপথ্যে গরিবের ডাক্তার সামির হোসেন মিশু’ এবং আরও ৩ জনের নাম নিয়ে ফেসবুকে একটি ভিন্ন নাম থেকে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন বলে সাগরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

হরিলুট হওয়ার কোন সুযোগ নেই উল্লেখ করে মামলার বাদী শামিমা আকতার বলেন, আমি রাতে ফেসবুকে মানহানিকর মিথ্যা পোস্ট দেখে আমার ঊর্ধ্বতনদের বিষয়টি জানাই এবং নিজেই সদর থানায় অভিযোগ দেই। পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, আমরা স্বেচ্ছাসেবীদের টাকা ঠিকমতো দিচ্ছি না। কিন্তু সরকারি নিয়ম মেনে উৎসে কর কর্তন করে স্বেচ্ছাসেবীদের টাকা দেয়া হয়। কারণ কাজটি সরাসরি অনলাইনে সাবমিট হয়। অনলাইনে সাবমিট হলে একজন স্বেচ্ছাসেবী নিজেই জানেন তার কাজের ভাতা কত হয়েছে এবং তাকে সেই ভাতাই প্রদান করা হয়।

মামলার এজহারে বলা হয়েছে, শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা প্রধান সহকারী কাম-হিসাব রক্ষক শামিমা আকতার দেখেন ফেসবুকে ‘বগুড়ায় স্বাস্থ্য স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মানী প্রদানে হরিলুট। নেপথ্যে গরিবের ডাক্তার সামির হোসেন মিশু’ এমন একটি পোস্ট করা হয়েছে। ওই পোস্টে সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সামির হোসেন মিশু, অফিসের প্রধান সহকারী কাম-হিসাব রক্ষক শামিমা আকতার, অফিসের কর্মচারী সোহেল রানা সিএইচসিপি, খাদেমুল ইসলাম সিএইচসিপি এবং সুরাইয়া আক্তার সিএইচসিপির নামে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য অপ-প্রচার করা হচ্ছে। যা জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ, উত্তেজনা ও অসন্তোষের সৃষ্টি করে।

এ বিষয়ে বগুড়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সামির হোসেন মিশু বলেন, আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েছি। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে একজনকে গ্রেফতারের পর জানতে পেরেছি ফেক আইডি তৈরি করে যে মানহানিকর পোস্ট করেছে সে আমাদের সরকারি প্রকল্পের (এমএইচভি) একজন স্বেচ্ছাসেবী। তবে সে সাংবাদিক কিনা সেটা আমাদের জানা নেই।

জানতে চাইলে সদর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বুঝতে পারেন যে এটি ফেসবুকে একটি ফেক আইডি থেকে পোস্ট করা হয়েছে। এরপর পোস্টদাতাকে ধরতে অভিযান চালানো হয়। রোববার সকাল ৬টার দিকে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সাগরকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।