“তোর দেশে থাকার দরকার নাই, তোর সাংবাদিকতা করারও দরকার নাই"


“তোর দেশে থাকার দরকার নাই, তোর সাংবাদিকতা করারও দরকার নাই"

সাংবাদিক সিয়াম সারোয়ার জামিল গত ২২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার  ঢাকার নাখালপাড়া থেকে নিখোঁজ হন। একদিন পর ২৩ এপ্রিল তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় সাভারের আশুলিয়ায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশ থেকে। পুরো ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সাংবাদিক সিয়াম সারোয়ারের মুখোমুখি হয়ছিল বিজেসি নিউজঃ

বিজেসিঃ কেমন আছেন আপনি

সিয়াম সারোয়ার: ভালো আছি

বিজেসিঃ কিভাবে অপহৃত হলেন ঘটনা জানতে চাই

সিয়াম সারোয়ারঃ   ঐদিন বেশ মনখারাপ ছিল নানা কারণে। আমি ঐদিন সন্ধ্যার পরে আমিনবাজার ব্রিজ পার হয়ে কিছুদূর হাঁটছিলাম।ঠিক সেই সময় হঠাৎ করে পেছন থেকে একজন এসে আমার হাতে ফোন ছিল সেই ফোনটা টান দেয়। তখন আমি সম্বিত ফিরে পেয়ে  দ্রুত তার পেছনে ধাওয়া করি এবং একটা লাথিও দেই পেছন থেকে। কিন্তু ঠিক সেই সময় পেছন দিক থেকে আরও দুইজন আসে এবং আমার দুই সাইড ধরে তারপর আর একজন চতুর্থ ব্যক্তি যে লুঙ্গি বা গামছা এরকম একটা কাপড় দিয়ে আমার পুরো মুখোমন্ডলটা ঢেকে ফেলে এবং আমাকে মাটিতে শুইয়ে দেয়। তখন রাস্তাটা বেশ নির্জন ছিল। তার কিছুক্ষণ পর আমি বুঝতে পারি যেহেতু আমি দেখতে পাচ্ছি না বুঝতে পারি যে কোনো একটা গাড়ি এসে থামে সেটা ট্রাক হতে পারে বা লরি হতে পারে বা অন্য কোনো গাড়ি হতে পারে। সেখানে আমাকে উঠিয়ে দেয়।

বিজেসিঃ  অপহরণের পরের ঘটনা কি?

সিয়াম সারোয়ারঃ  গাড়িতে উঠানোর পর আমাকে তাৎক্ষণিকভাবে লাথি, কিল-ঘুষি এই ধরণের মারধর করে ।তারা কোনো একটা গ্রামের রাস্তা বা এই ধরণের রাস্তা বাঁ দিকে শামলাপুরের দিকে কেরানীগঞ্জের দিকে যে রাস্তা গেছে এরকম কোনো রাস্তা দিয়ে গেছে এবং গাড়িটা ঐখান দিয়েই যাচ্ছিল যেহেতু উঁচুনিচু ছিল আমার ধারণা ঐ সাইডই কারণ মেইন রোড অনেক মসৃন হওয়ার কথা। ঐ সময়টা তারা আমাকে বিভিন্ন রকমের মারধর করেছে। কয়েক ঘণ্টা পর আবার আমাকে নিয়ে বসছে। যে চারজন ছিল তাদের মধ্যে একজন বেশি কথা বলেছে। তার উচ্চারণ ভঙ্গি অনেকটা চাটগাঁ বা ফেনী বা নোয়াখালী এই অঞ্চলের মানুষের মত মনে হয়েছে এবং তিনি যথেষ্ট শিক্ষিত বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। ঐ ব্যক্তি যে আমাকে চেনে তা তাদের একটা আলোচনায় আমি বুঝতে পেরেছি। একজন বলছিল, “এই ব্যাটা যে সাংবাদিক এইটা তো আপনি জানতেনআমাগো বলেন নাই কেন?” তখন আমি বুঝতে পেরেছি। তাদের হাতে ধারালো কোনো অস্ত্র ছিল সেটা এন্টিকাটার বা ব্লেড বা এধরণের কিছু হবে। যখনই কোনো প্রশ্ন করেছে আমি উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছি। সেটা সত্য হোক বা মিথ্যা হোক বা যাই হোক না কেন প্রত্যেকটা উত্তরে তারা আমার হাতে-পায়েবুকেমুখে শরীরে বিভিন্ন অংশে পোঁচ দিয়েছে। আমি বারবার চিৎকার করলেও সু্যোগ খুব বেশি ছিল না। তারা কখনও মুখ টেপ দিয়ে আটকে রেখেছে আবার কখনও খুলে দিয়েছে।

বিজেসিঃ  তারা আপনাকে কোনো প্রকার হুমকি দিয়েছিল ?

সিয়াম সারোয়ারঃ  ছেড়ে দেওয়ার আগে অর্থাৎ শেষের দিকে তারা আমাকে বলেছে যে, তোর দেশে থাকার দরকার নাইতোর সাংবাদিকতা করারও দরকার নাইতোর এইসব কর্মকান্ডের মধ্যে থাকার দরকার নাই। তোকে ছেড়ে দিচ্ছি এবারের মত। ভবিষ্যতে কোনোরকমের দেশ বা সমাজ এসব নিয়ে কোনো লেখালেখিরও দরকার নাই 

বিজেসিঃ  মুক্তি পেলেন কিভাবে?

সিয়াম সারোয়ার: তারা আমাকে কোনো একটা নির্জন এলাকায় নিয়ে যায় যেখানে অনেক গাছপালা ছিল। সেখানে রেখে দিয়েছিল সারাদিন। আমার ধারণা আমার আশেপাশে অনেক মালামাল ছিল যা আমি দেখতে পাইনি। মালমাল চাপা দেওয়া ছিল ফলে বোঝার উপায় ছিল না মুখে টেপও বাধা ছিল। সারাদিন যাওয়ার পর ওদেরই একজন বলেছিল সন্ধ্যার পরে কোনো একটা নির্জন জায়গা দেখে আরিচা মহাসড়কে পাশে কোথাও ফেলে দিতে। গণস্বাস্থ্যের আশেপাশে ঐ এলাকাটা বেশ নির্জন ছিল ঐ জায়গার একটা মাঠে আমাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে রাখে। পরে পায়ের বাঁধনটা খুলে দেয় কিন্তু হাতের বাঁধনটা ছিল এবং বলছিল “দশ মিনিট এখানে শুয়ে থাকবি। আমরা চলে যাওয়ার উঠবি।” দশ মিনিট শুয়ে থাকার পর উনারা যখন চলে গেল তখন আমি উঠে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। আমাকে বলেছিল যে এইদিকে মেইন হাইওয়ে। আমি জায়গাটা চিনিও না ঠিক মত এখন হয়তো চিনতে পারব। হাইওয়ে দিয়ে ইজিবাইক বা এধরণের ছোট ছোট গাড়ি যাচ্ছিল। আমার হাত এমন ভাবে বাঁধা ছিল আর হাতের উপরে শার্টও দেওয়া ছিল ফলে মানুষজন বুঝতেও পারছিল না যে আমার হাত বাঁধা অবস্থায় আছে।তাই মানুষ ঐভাবে এগিয়ে আসেনি। শেষের দিকে একজন লোক রাস্তা দিয়ে হাঁটছিল তাকে বললাম যে ভাই আমি বিপদে পড়ছি আপনি একটু হেল্প করেন আমার দড়ির বাঁধনটা খুলে দেন। তখন উনি অবাক হয়ে যায় জিজ্ঞেস করছিলেন কে বাঁধছে? কি বাঁধছে? এরপর উনি দ্রুত দড়ির বাঁধন খুলে দিলেন। পরে জেনেছিলাম উনি একজন কাঠমিস্ত্রি ছিলেন। তিনি আশপাশের লোকজনকে দ্রুত ডাকলেন। তার সহায়তায় আশেপাশে ঘুরে ঐ লোকদের আর পাওয়া যায় নাই। পরে মেইন রোডের পাশে একটা গ্যারেজে আমাকে নিয়ে আসা হয় এবং স্থানীয় কিছু সাংবাদিকদের ডাকা হয়। পরে একজনের মাধ্যমে বাসায় আমি ফোন দেই আমার স্ত্রীকে। আমার স্ত্রী তখন আমার যারা লোকাল বন্ধু-বান্ধব বা ছোট ভাই বা পরিচিত যারা ছিল তাদেরকে জানায়। তারা তখন দ্রুত এসে আমাকে নিয়ে প্রথমে ধামরাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। আমাকে এর মধ্যে জোরপূর্বক ড্রাগস বা ঘুমের ওষুধ বা এইধরণের কিছু খাওয়ানো হয়েছিল। এরফলে আগের দিনও সারাদিন ঘুমিয়েছি এবং ফেলে দেওয়ার সময় আমার মধ্যে চেতনানাশক ওরকম কিছুর উপস্থিতি ছিল। উদ্ধার হওয়ার পর আমার আসলে ততটা সেন্স ছিল না। ফলে ঐ হাসপাতালে আসলে কি ঘটেছে আমার ততটা মনেও নাই। তারপর আমি ঢাকায় এই হাসপাতালে(হেলথ এন্ড হোপ হাসপাতাল) আসি। উদ্ধারের পরদিন সকাল থেকে আসলে আমি কিছুটা মনে করতে পারছি। আগের রাতে কি হয়েছে? আমি কিভাবে এখানে এসেছি আমার আসলে মনে নেই।

বিজেসিঃ  অপহরণের বিষয়ে কাউকে সন্দেহ করছেন?

সিয়াম সারোয়ারঃ  সম্প্রতি এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি যা দেখে মনে হয়েছে যে আমার সাথে কারও কোনো শত্রুতা আছে। আমি যতটুকু বুঝেছি যে এইটা পূর্ব শত্রুতা হতে পারে অনেক আগের কেউ। এইটুকু আমি নিশ্চিত যে যিনি আমাকে আক্রমণ করেছেন বা নির্যাতন করেছেন তিনি আমাকে চেনেন। তিনি উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে আমাকে নির্যাতন করেছেন। তবে কি সংক্রান্ত বিষয়ের কারণে নির্যাতন করেছেন তা বলতে পারব না। তিনি আমাকে সাংবাদিকতা ছেড়ে দিতে বলছেন এবং দেশে থাকতেও নিষেধ করেছেন।

বিজেসিঃ  আপনি তো অনেকদিন থেকে ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত আছেন?

সিয়াম সারোয়ারঃ  আমি প্রায় দীর্ঘ বারো বছর বামপন্থী ছাত্র রাজনীতি করেছি। আমি ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা জেলার সভাপতি ছিলাম , ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। পরে এই রাজনৈতিক সংগঠনের যে যুব সংগঠন সেখানেও আমি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি।

বিজেসিঃ  রাজনৈতিক কোনো কারণে কি এই অপহরণের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে?

সিয়াম সারোয়ারঃ  দেখুন আমি মূলত সাংবাদিকতা করছি ২০১২ সাল থেকে। গণজাগরণ মঞ্চের সময় খুবই এক্টিভ ছিলাম। সেই সময় থেকে অনেকেই আমাকে চেনে। ঐ সময় আমার লেখালেখি নিয়ে অনেক শত্রুতা ছিল । পরবর্তীকালে হিজবুত তাহেরীকে নিয়ে প্রথম যে নিউজ হয়েছিল যেমনঃ নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরীতে হিজবুত তাহেরীর অনেক বই পাওয়া গিয়েছে সেটা নিয়ে আমিই প্রথম এক্সক্লুসিভ নিউজ করেছিলাম। ঐ ঘটনার পরে তার চাকুরীও চলে গেছিল। এরকম বেশকিছু ঘটনা বেশ আলোচিত ছিল সবকিছু এখন হয়তো মনে নাই। আবার আমি সরকারের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও বেশকিছু এক্সক্লুসিভ নিউজ করেছি ইন্টারভিউ নিয়েছি। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আমি যে নিউজ করেছি সেগুলো কিছু কিছু সরকারের বিরুদ্ধে গেছে মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে তো গেছেই। সেখানে থেকে অনেকে অনেক কিছু করতে পারে। তবে সম্প্রতি আমার সাথে কারও সাথে কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না বা রাজনৈতিক, পেশাগত ঐ ধরণের কোনো শত্রুতা ছিল না অন্তত গত কয়েক মাসে এরকম আমার মনে পড়ছে না। তবে ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫, ২০১৬ ঐ সময়কালে বিভিন্ন মুভমেন্টে ও অনেক রাজনৈতিক আন্দোলনে আমি ছিলাম। সাংবাদিকতা করতে গিয়েও আমি অনেকের শত্রুতে পরিণত হয়েছিলাম। বিশেষ করে মৌলবাদী শক্তিগুলো বিরুদ্ধে আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক যে ডাকসু নির্বাচন সেইখানেও আমি সক্রিয় ছিলাম। আমি মৌলবাদী শক্তির উত্থান নিয়েও বিভিন্ন সময় নিউজ করেছি আরটিভিতে। এই বিষয়গুলো নিয়ে অনেকের শত্রুতা থাকতে পারে। তবে সেই মুহূর্ত আমি আসলে চিহ্নিত করতে পারিনি কে এবং ঐ লোক কেন চট্টগ্রামের উচ্চারণেই কথা বলছিল। চট্টগ্রামের সাথে আমার কোনো শত্রুতা আছে বলে আমার মনে পড়ছে না।

বিজেসিঃ  আর টিভিতে আপনি কোন বিটে কাজ করতেন?

সিয়াম সারোয়ারঃ  আর টিভিতে আমি সাধারণত পলিটিক্যাল বিট, স্টুডেন্ট পলিটিক্স এই ধরণের বিষয়গুলো করতাম। এডুকেশন বিট করতাম। এর বাইরে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আমার যোগাযোগ ভালো ছিল  সেইটা আমি দেখতাম।

বিজেসিঃ  এর আগে কেউ আপনাকে কখনও কোনো প্রকার হুমকি দিয়েছিল?

সিয়াম সারোয়ারঃ  এর আগে আমাকে এই সমসাময়িককালে কেউ হুমকি-ধমকি দেয়নি তবে বছর কয়েক আগে আন্দোলন সংগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ে আমার ফেইসবুকে বিভিন্ন সময়ে হুমকি-ধমকির শিকার আমি হয়েছি।

বিজেসিঃ  অপহরণের পরে আপনারা কোনো মামলা বা কোনো প্রকার আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন?

সিয়াম সারোয়ারঃ  এখন পর্যন্ত আমি হাসপাতালে ভর্তি আছি। আমার শারীরিক অবস্থা এতটা সুস্থ না যে আমি এখন আশুলিয়া গিয়ে সেইখানে মামলা করব। কারণ ঘটনাটা আশুলিয়া থানার আওতাধীন। ঐ লকডাউনের মধ্যে যেতে হলে আমার যেটুকু শারীরিক সুস্থতা দরকার সেটুকু আমার এখনও হয়নি। তবে তেজগাঁ থানা পুলিশ অর্থাৎ যেখানে জিডি(নিখোঁজের পর) করা হয়েছিল তারা পরামর্শ দিয়েছে যে ঘটনা যেহেতু আশুলিয়ার আপনাকে আশুলিয়া গিয়ে মামলা করতে হবে। আমার শারীরিক সুস্থতা সাপেক্ষে আশুলিয়া গিয়া আইনি ব্যবস্থা নিতে পারব।

বিজেসিঃ  আপনার ভাষ্যমতে আপনার ফোন অপহরণের দিন সকালেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেক্ষেত্রে অপহরণের আগে সকাল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত দীর্ঘ একটা সময় আপনার ফোন বন্ধ ছিল এই সময়টাতে বাসায় ফোন দিয়ে আপনার অবস্থান জানানোর প্রয়োজন বোধ করেননি কেন?

 সিয়াম সারোয়ারঃ  আগেরদিন রাতে আসলে আমার ফোন চার্জ দেওয়া হয়নি অল্পকিছু চার্জ ছিল। আমি সকালবেলা বের হয়ে গেলাম আমার অফিসের কিছু কাগজপত্র ছিল যেগুলো আমার বোনের বাসায় ছিল। আমি সকাল বেলা ভাবলাম যে আমি বোনের বাসায় যাব। কাগজপত্র গুলো দেখব এবং ছবিও তুলব। সেগুলো মেইলও করব এক বন্ধুর কাছে। সে চিন্তা থেকে সেখানে গিয়েছিলাম এবং সেখানে কিছুক্ষণ ফোন চার্জও দিয়েছিলাম। কিন্তু এক্সিডেন্টলি চার্জারের সুইচটা আমি অন করতে ভুলে গিয়েছিলাম। ফলে ফোনে মাত্র ১০ বা ১২ পার্সেন্ট চার্জ ছিল। ঐদিন আসলে মনটন খুব খারাপ ছিল। বাসা থেকে বের হওয়ার পর শ্যামলীর দিকে যাই কল্যাণপুরের দিকে আমারে এক বন্ধুর বাসা আমি ভেবেছিলাম সেখানে যাব কিন্তু ফোনটা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আর সেখানে যাইনি। পরে ভাবলাম তাহলে একটু গাবতলীর দিকে যাই সেখানে কোনো নিউজ যদি থাকে কারণ গাবতলীর ঐ জায়গাটা কি অবস্থায় আছে লকডাউন নিয়েও কোনো নিউজ করা যায় কিনা। সারাদিন ঐখানে ছিলাম তবে বাসায় জানানোর যে চিন্তা তা সারাদিন আমার মাথায় আসেনি। পরে সন্ধ্যার দিকে মনে হয়েছে যে অনেক সময় হয়ে গেছে বাসার কাউকে জানানো দরকার। পরে ভাবলাম রাত হয়ে গেছে একটু পর তো বাসায় চলেই যাব এখন আর না জানাই। কিন্তু ঘটনাটা তার একটু পরই ঘটে গেল।